স্ত্রী কি স্বামীকে তালাক দিতে পারে?
এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
বাংলাদেশে মুসলিম বিবাহে স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পারবেন কি না, তা এক কথায় বলা ঠিক নয়।
প্রথমে কাবিননামা দেখতে হয়। সেখানে স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়া আছে কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ।
যদি স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়া থাকে, তাহলে তিনি সেই অধিকার ব্যবহার করতে পারেন।
যদি অধিকার না থাকে, তাহলে খোলা বা আদালতের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদের পথ বিবেচনা করতে হতে পারে।
কাবিননামার ১৮ নম্বর কলাম কেন গুরুত্বপূর্ণ?
স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে চাইলে কাবিননামা বা নিকাহনামা আগে দেখা দরকার।
অনেক ক্ষেত্রে কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামে স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা দেওয়া আছে কি না, সেই বিষয়টি দেখা হয়।
যদি এই অধিকার দেওয়া থাকে, তাহলে স্ত্রী তালাক-ই-তাফউইজ বা delegated right ব্যবহার করে প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন।
যদি অধিকার দেওয়া না থাকে, তাহলে সরাসরি একইভাবে তালাক দেওয়া কঠিন হতে পারে। তখন খোলা বা আদালতের পথ নিয়ে পরামর্শ দরকার হতে পারে।
ডিভোর্সের কাগজপত্র ও ফরম নিয়ে confusion থাকলে ডিভোর্স পেপার গাইডটি আগে পড়ে নিতে পারেন।
তালাক-ই-তাফউইজ কী?
তালাক-ই-তাফউইজ বলতে সাধারণভাবে স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীকে তালাকের অধিকার অর্পণ করার বিষয় বোঝায়।
এই অধিকার সাধারণত কাবিননামার শর্তের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
Muslim Family Laws Ordinance, 1961-এর Section 8-এ স্ত্রীকে divorce right delegated হলে Section 7-এর বিধান প্রযোজ্য হওয়ার কথা বলা আছে। Official source: Muslim Family Laws Ordinance, 1961 — Section 8
স্ত্রী কর্তৃক তালাকের নোটিশ
স্ত্রী যদি delegated right ব্যবহার করেন, তাহলে লিখিত নোটিশের বিষয় আসে।
নোটিশে সাধারণত স্বামী-স্ত্রীর নাম, ঠিকানা, বিবাহের তারিখ, কাবিননামার তথ্য এবং তালাকের ঘোষণা থাকে।
সাধারণভাবে অপর পক্ষকে কপি দিতে হয়। সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষকেও কপি দেওয়ার বিষয় থাকতে পারে।
Section 8 অনুযায়ী, স্ত্রী delegated right ব্যবহার করলে Section 7-এর বিধান যতদূর প্রযোজ্য, ততদূর প্রযোজ্য হতে পারে। Section 7-এ তালাক নোটিশ, Chairman-কে notice এবং ৯০ দিনের বিষয়ের কথা আছে। Official source: Muslim Family Laws Ordinance, 1961 — Section 7
নোটিশে যা থাকতে পারে
- স্ত্রীর নাম ও ঠিকানা
- স্বামীর নাম ও ঠিকানা
- বিবাহের তারিখ
- কাবিননামার তথ্য
- তালাকের delegated right-এর উল্লেখ
- নোটিশের তারিখ
- স্বাক্ষর
খোলা তালাকের পথ
যদি কাবিননামায় স্ত্রীকে তালাকের অধিকার না দেওয়া থাকে, তাহলে খোলা একটি পথ হতে পারে।
খোলা সাধারণত স্ত্রীর পক্ষ থেকে বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন বা সমঝোতার পথ হিসেবে পরিচিত।
এখানে দেনমোহর, সমঝোতা, স্বামীর সম্মতি বা অন্য শর্তের বিষয় আসতে পারে।
কেসভেদে বিষয় আলাদা হতে পারে। তাই খোলা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কাজী অফিস, আইনজীবী বা qualified আলেমের সঙ্গে কথা বলা ভালো।
আদালতের মাধ্যমে ডিভোর্স
কিছু ক্ষেত্রে স্ত্রী আদালতের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ চাইতে পারেন।
Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939-এ মুসলিম নারী কোন কোন ground-এ dissolution decree চাইতে পারেন, সেই বিষয়ে বিধান আছে। Official source: Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939 — Section 2
যেমন, স্বামী দীর্ঘদিন খোঁজ না রাখা, ভরণপোষণ না দেওয়া, নিষ্ঠুর আচরণ, marital obligations পালন না করা বা কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আদালতের বিষয় আসতে পারে।
এগুলো sensitive legal matter। তাই নিজের কেস অনুযায়ী আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কী কী কাগজ লাগতে পারে?
কাগজপত্র কেস অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। তবে কিছু কাগজ আগে থেকে প্রস্তুত রাখা ভালো।
| কাগজপত্র | কেন দরকার |
|---|---|
| কাবিননামা / নিকাহনামা | স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়া আছে কি না দেখার জন্য |
| NID | পরিচয় যাচাইয়ের জন্য |
| বর্তমান ঠিকানা | নোটিশ পাঠানোর জন্য |
| তালাক নোটিশ | প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য |
| প্রমাণ বা রসিদ | নোটিশ পাঠানো বা কাগজ জমা দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে |
ডিভোর্সের general process বুঝতে চাইলে ডিভোর্স দেওয়ার নিয়ম গাইডটি পড়ুন। সেখানে নোটিশ ও ৯০ দিনের বিষয় সহজভাবে দেওয়া আছে।
নিরাপত্তা ও বাস্তব জীবনের কথা
স্বামী-স্ত্রীর সমস্যা সব সময় একই রকম নয়।
কখনো ভুল বোঝাবুঝি, পরিবার বা বাইরের চাপ থেকে সমস্যা হয়। সেক্ষেত্রে শান্তভাবে কথা বলা ও সমঝোতার চেষ্টা করা ভালো।
কিন্তু যদি নির্যাতন, ভয়, মাদক, জুয়া, প্রতারণা, অন্য নারীতে আসক্তি বা নিরাপত্তার সমস্যা থাকে, তাহলে নিজের নিরাপত্তা আগে ভাবতে হবে।
এমন অবস্থায় বিশ্বস্ত পরিবার, আইনজীবী, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা প্রয়োজনীয় সহায়তার কাছে যাওয়া ভালো।
সাধারণ ভুল
স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে চাইলে অনেকেই কিছু ভুল করেন।
- কাবিননামা না দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া
- ১৮ নম্বর কলাম না বোঝা
- খোলা ও তালাক-ই-তাফউইজ এক মনে করা
- শুধু মুখে বললেই সব শেষ মনে করা
- নোটিশ কোথায় যাবে না জেনে কাগজ পাঠানো
- আইনজীবী বা কাজী অফিসে যাচাই না করা
শেষ কথা
ইসলামে স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে চাইলে আগে কাবিননামা দেখা জরুরি।
স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়া থাকলে তিনি সেই অধিকার ব্যবহার করতে পারেন।
অধিকার না থাকলে খোলা বা আদালতের পথ বিবেচনা করতে হতে পারে।
নিজের কেস অনুযায়ী কাজী অফিস, আইনজীবী বা qualified আলেমের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিন।
সাধারণ প্রশ্ন
ইসলামে স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পারে?
স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পারবেন কি না, তা কাবিননামায় তালাকের অধিকার দেওয়া আছে কি না, খোলা বা আদালতের পথ আছে কি না—এসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করতে পারে।
কাবিননামার ১৮ নম্বর কলাম কেন গুরুত্বপূর্ণ?
কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামে সাধারণত স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কি না, সেই বিষয়টি দেখা হয়। তাই স্ত্রী তালাক দিতে চাইলে আগে কাবিননামা দেখা জরুরি।
স্ত্রী কর্তৃক তালাকের নোটিশ কোথায় দিতে হয়?
স্ত্রী যদি তালাকের delegated right ব্যবহার করেন, তাহলে সাধারণভাবে লিখিত নোটিশ, অপর পক্ষকে কপি এবং সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে কপি দেওয়ার বিষয় আসে।
তালাক-ই-তাফউইজ কী?
তালাক-ই-তাফউইজ বলতে সাধারণভাবে স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীকে তালাকের অধিকার অর্পণ করার বিষয় বোঝায়। এটি কাবিননামার শর্তের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
খোলা তালাক কী?
খোলা হলো স্ত্রী পক্ষ থেকে বিবাহ বিচ্ছেদের একটি পথ, যেখানে সমঝোতা, দেনমোহর বা অন্য শর্তের বিষয় আসতে পারে। কেসভেদে নিয়ম ভিন্ন হতে পারে।
স্ত্রী আদালতের মাধ্যমে ডিভোর্স চাইতে পারে?
Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939-এ মুসলিম নারী কোন কোন ground-এ আদালতের decree চাইতে পারেন, সেই বিষয়ে বিধান আছে।
শুধু নোটিশ দিলেই কি ডিভোর্স শেষ?
না। নোটিশ প্রক্রিয়ার একটি অংশ। কাগজপত্র, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, সময় এবং final record বা certificate গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
স্বামী খারাপ হলে স্ত্রী কী করবে?
নির্যাতন, ভয়, মাদক, জুয়া, প্রতারণা বা নিরাপত্তার সমস্যা থাকলে বিশ্বস্ত পরিবার, আইনজীবী, সংশ্লিষ্ট অফিস বা প্রয়োজনীয় সহায়তার কাছে যেতে হবে।